এই এলাকার মানুষ নেলসন মেন্ডেলাকে দেখেনি, কিন্তু আজ তারা রেজওয়ান সাহেবকে দেখেছে। তিনি আজ যে উদারতার নজির স্থাপন করেছেন তাতে এই এলাকার মানুষ মুগ্ধ এবং বিস্মিত। গতকাল রেজওয়ান সাহেবের বাসায় চোর ধরা পড়েছিল। সেই চোরকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ রেজওয়ান সাহেবদের বাসায় ভিড় করে। ক্ষুব্ধ জনতা যখন চোরকে গণধোলাই দিতে উদ্যত হয়, তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে রেজওয়ান সাহেব ক্ষুব্ধ জনতা আর চোরের মাঝে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। তৈরি করেন মহত্ত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যে চোর কিছুক্ষণ আগেই তার সর্বনাশ করতে চেয়েছিল, সেই চোরকেই রক্ষা করতে তিনি একটি রুমে চোরকে আটকে রাখেন।ক্ষুব্ধ জনতা যাতে চোরকে গণধোলাই দিতে না পারে, তাই তিনি একজন একজন করে রুমে মানুষ ঢুকিয়েছেন, যাতে সাধরন মানুষ চোরকে একটু ছুঁয়ে দেখতে পারে। রুমের সামনে ছিল লম্বা লাইন।সেই লাইনে আমিও ছিলাম। লাইন এত বড় ছিল যে পরের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়। সারা রাত রেজওয়ান সাহেব চোরটির সাথে একই রুমে থেকে তাকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। রুম থেকে রেজওয়ান সাহেবের একটি কথাই বারবার ভেসে আসছিল “আরে আস্তে, মরে যাবে তো!” রেজওয়ান সাহেব চোরকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এই খবর জানাজানি হতেই আমরা আবার ছুটে গেলাম ওনার বাসায়। গিয়ে দেখি, লোকজন ধরাধরি করে চোরটাকে বাড়ির বাইরে শুইয়ে রেখেছে। মরে যাওয়ার ভান এখনও শেষ হয়নি দেখছি হারামজাদার। আমরা বললাম, “চোরটাকে এভাবে ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হচ্ছে? পুলিশে হয় না দিলেন, অন্তত ভালো মতন একটু উত্তম-মধ্যম তো দেওয়া উচিত ছিল নাকী? তাহলে এমন অভিনয় করত না হারামজাদা...” রেজওয়ান সাহেব চুপ। তিনি একটি রিকশা ডাকতে বল্লেন। লোকজনকে বললেন চোরটাকে রিকশায় তুলো। আমরা শুধু অবাক হয়ে তাঁকে দেখছি। তিনি রিকশাওয়ালাকে ২০ টাকা দিয়ে বললেন, “একে চৌরাস্তার মোড়ে ফেলে দিয়ে আস।” আমরা রেজওয়ান সাহেবকে যত দেখছি, ততই মুগ্ধ হচ্ছি। যে চোর কাল তাঁর সর্বনাশ করতে চেয়েছিল, সেই চোরকেই আজ তিনি নিজের টাকায় রিকশায় চড়াচ্ছেন... কাল থেকে রেজওয়ান সাহেবকে যত দেখছি, ততই অবাক হচ্ছি। রেজওয়ান সাহেব আজ পাপকে ঘৃণা করেছেন, পাপীকে নয়।
Comments
0 comments | 7 views